ঢাকা - এপ্রিল ২৫, ২০১৮ : ১১ বৈশাখ, ১৪২৫

মিনায় লাশের মিছিল, ট্রাজেডির দায় কার?

নিউজ ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৫ ০০:৫৯
মিনার দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত পদদলিত হয়ে ৭৬৯ জন নিহত হয়েছে। সৌদি আরব ৯৩৪ জন আহত হয়েছে জানালেও প্রকৃত আহতের সংখ্যা প্রায় ১৫০০ জন হবে বলে জানা গেছে। তন্মধ্যে বাংলাদেশি ২৪ জন নিহত এবং ১২৪ জন নিখোঁজ রয়েছে। দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।

সৌদি সরকারের দুর্বল ব্যবস্থাপনাই এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন অনেক হাজী। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনি বলেছেন, ‘অব্যবস্থাপনা ও অযথাযথ পদক্ষেপের কারণে সংঘটিত এই দুর্ঘটনা উপেক্ষা করা যায় না। সৌদি আরবকে এর দায় স্বীকার করতে হবে।’ ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়েছে, সৌদি সরকার সঠিক তথ্য ‘প্রকাশ করছে না’, মিনায় নিহতের সংখ্যা ‘প্রায় দুই হাজার’।তেহরান টাইমস জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদকে বহনকারী গাড়িবহর ও নিরাপত্তা প্রহরা মিনায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা দখল করে নেয়। ফলে হাজিরা তাঁদের গতিপথ বদলাতে বাধ্য হন। আর সেটাই দুর্ঘটনার কারণ।

এদিকে হজ ব্যবস্থাপনায় তাদের গাফিলতি ছিল না বলে দাবি করেছে সৌদি সরকার। সৌদি গেজেট ও আরব নিউজ জোর দিয়ে লিখেছে যে, ৩০০ ইরানি হাজি নিয়ম ভেঙে চলাচল করতে গিয়েই এই দুর্ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতি শেখ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল শেখ হজের সময় পদদলিত হয়ে মানুষের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বলে বর্ণনা করেছেন। এজন্য সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দোষী হতে পারেন না।সৌদি হজ কমিটির প্রধান প্রিন্স খালেদ আল ফয়সাল হুড়োহুড়ির জন্য ‘আফ্রিকান হাজীদের একটি দল’কে দায়ী করেন। সৌদির স্বাস্থ্যমন্ত্রী খালেদ আল ফালিহও বলেছেন, ‘অনেক হাজীই কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সময়ের তোয়াক্কা করেন না। আর এটিই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। যদি হাজীরা আমাদের নির্দেশনা মেনে চলতেন তা হলে এ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।’

নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, মিসর, ইরানসহ বেশ কয়েকটি দেশ এ দুর্ঘটনার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্ত করছে। এবারে  মিনায় পদদলনে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২হাজার বলে দাবি করেছে নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও ইরান।  তবে সিএনএন একটি প্রতিবেদনে বলেছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার বাধ্যবাধকতার কারণে হাজিদের মধ্যে তাড়াহুড়ো ছিল। মিনায় ওই দিন ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। যেদিকে যাওয়ার কথা অনেকে তার বিপরীত দিকে যাওয়ায় মুখোমুখি অবস্থার কারণে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য যে ১১ সেপ্টেম্বর একটি নির্মাণ-ক্রেন মসজিদের ওপর আছড়ে পড়ে ১১১ জন নিহত ও ৩৯০ জন আহত হন। ইতোপূর্বে পদদলিত হয়ে ১৯৮৭ সালে ৪০০, ১৯৯০ সালে ১ হাজার ৪২৬, ১৯৯৪ সালে ২৭০, ১৯৯৭ সালে ৩৪৩ জন, ২০০১ সালে ৩৫ জন, ২০০৪ সালে ২৪৪ জন, ২০০৬ সালে ৩৬৪ জন, ১৯৯০ সালে ১ হাজার ৪২৬ জন নিহত হন।

বাংলাদেশ২৪অনলাইন/এআর


মন্তব্য