ঢাকা - ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮ : ১০ ফাল্গুন, ১৪২৪

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা

নিউজ ডেস্ক
ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭ ১৪:১৩

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিনিয়র উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার ও সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সঙ্ঘাতের সূচনা করতে যাচ্ছে। আরব বসন্তের ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, তাতে কুশনার-সালমান-নেতানিয়াহু আরো নতুন যুদ্ধ ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করছেন। সৌদি আরব, ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে এক নম্বর শত্রু হিসেবে ঘোষণা করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সৌদি-মার্কিন ভুলনীতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে আরো বেশি শক্তিশালী করছে।

ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের পর শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে ইরানের প্রভাব আরো বেড়েছে। সিরিয়ায় ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র বাশার আল আসাদ সরকার টিকে গেছে। লেবাননে সাদ হারিরি সুন্নী রাজনৈতিক দলের সাথে শিয়া গেরিলা সংগঠন হিজবুল্লাহকে নিয়ে সরকার গঠন করেছে। ফলে ইরাক থেকে সিরিয়া পর্যন্ত ইরানের প্রভাব বেড়েছে।

অপর দিকে, ইয়েমেনে শিয়া হাউছি যোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধে জড়িয়েও সাফল্য অর্জন করতে পারেনি সৌদি আরব। কাতারের ওপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অবরোধ আরোপের পর ইরান, তুরস্ক ও কাতারের মধ্যে এক ধরনের মৈত্রী গড়ে উঠেছে। এর পেছনে রয়েছে রাশিয়ার সমর্থন। এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু চাইছেন লেবাননে হিজবুল্লাহকে কোণঠাসা করতে এবং একই সাথে হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে।

ফিলিস্তিনের আরো কিছু ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে চান নেতানিয়াহু। এমনকি, সৌদি আরবকে সামনে রেখে ইরানের সাথে সীমিত যুদ্ধের পরিকল্পনা রয়েছে ইসরাইলের। এখন জেরুসালেম ইস্যুতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স জড়িয়ে পড়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সৌদি আরব। কুশনার-নেতানিয়াহু যুদ্ধবাজ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া বিন সালমানকে সম্ভবত সে পথেই নিয়ে যাচ্ছেন।



মন্তব্য