ঢাকা - এপ্রিল ২১, ২০১৮ : ৮ বৈশাখ, ১৪২৫

মাভাবিপ্রবি’তে পরিবেশবিদদের গোচরেই হচ্ছে পরিবেশ দূষণ

নিউজ ডেস্ক
নভেম্বর ২৮, ২০১৭ ২২:৪৩

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ও নতুন একাডেমিক ভবনের মাঝে অবস্থিত "রানী পুকুর" পাড়ে ময়লা আবর্জনাসহ খাবারের বিভিন্ন অংশ ফেলে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। শুধু যে পরিবেশই দূষণ হচ্ছে এমনটা নয়। একদিকে যেমন পুকুরটি ধীরে ধীরে আয়াতনে কমে যাচ্ছে ঠিক তেমনি তার নিজস্ব শোভাও হারাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরাতন ও নতুন একাডেমিক ভবনের মাঝে এবং কেন্দ্রিয় লাইব্রেরি কাম ক্যাফেটেরিয়ার সামনে দিয়ে নতুন (২য়) একাডেমিক ভবনে যাওয়ার রাস্তার পাশে অবস্থিত রানী পুকুর পাড়ে বিভিন্ন বিভাগের অব্যবহৃত কাগজপত্র, ময়লা আবর্জনা, ক্যাফেটেরিয়াসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ ফেলে রাখা হয়েছে। যা প্রচন্ড দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নতুন একাডেমিক ভবনে ক্লাস করে এবং এই পথে চলাচল করে এমন শিক্ষার্থীদের অনেকে অভিযোগ করে বলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রধান সড়ক। এখান থেকে ক্লাসে হেঁটে যাওয়ার মত কোন পরিবেশ নাই। দূর্গন্ধ এড়াতে এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় নাকে রুমাল কিংবা উড়না দিয়ে নাক ধরে যেতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এমন পরিবেশ মোটেই কাম্য নয়।

তারা আরও বলেন, এই পথে শুধু শিক্ষার্থীরাই চলাচল করে এমন না, নতুন একাডেমিক ভবনে চারটি বিভাগ(টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, পদার্থ বিজ্ঞান, পরিসংখ্যান ও গনিত বিভাগ) ও ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এসিউরেন্স সেলসহ (আইকিউএসি) শিক্ষক লাউ রয়েছে। সেসকল বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তারাও চলাচল করেন। তবুও কেন বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসছে না তা বুঝতে পারছিনা। তাদের মধ্যে বেশ কিছু শিক্ষার্থী জানান পুকুরটি এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ (ইএসআরএম) গবেষণার কাজে ব্যবহার করে থাকে। তাদের পক্ষ থেকেও কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

এদিকে গত ১৮ ই নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের গনিত বিভাগের ছাত্র “হুমায়ূন কবির আরজে" (ফেইসবুক নাম) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে বিষয়টি নিয়ে একটি পোস্ট ও দিয়েছিলেন। তার স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো, "চেয়েছিলাম ফটোগ্রাফি করতে, হয়ে গেল ভাগারগ্রাফি!!! নতুন একাডেমিক ভবন (১ও ২) এর মাঝখানের এই সৌন্দর্য দেখে প্রশংসা না করে দুংখ ভারাক্রান্ত মান নিয়েই ফিরতে হয়....সৌন্দর্যকে কলুসিত করে এমন মস্তিষ্কের মানুষদের প্রতি ধিক্কার জানাই। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি"।।

এ বিষয়ে ইএসআরএম বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী দিগন্ত বলেন, এ পুকুরটি আমরা গবেষনার কাজে ব্যবহার করি। এখানে গবেষণার জন্য বিভিন্ন প্রকারের মাছ ছাড়া হয়েছে। পুকুরটির পরিবেশ রক্ষায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি এবং পুকুরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষায় আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন পদক্ষেপও গ্রহন করেছি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইএসআরএম বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মীর মো: মোজাম্মেল হক ক্যাম্পাসের সকল পুকুরগুলোকে ফুসফুস আখ্যায়িত করে বলেন, রাতের আঁধারে কে বা কারা এই পুকুরে ময়লা-আবর্জনা ফেলছে তা আমরা চিহ্নিত করতে পারছি না। এই পুকুরগুলো রক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা অনেকবার অবহিত করেছি এবং ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মো: মাসুদুর রহমানকে ডেকে পুকুরে ময়লা ফেলতে নিষেধ করেছি। কিন্ত তাতেও কোন আশানুরূপ ফলাফল পাইনি। তিনি আরও বলেন, আমাদের বিভাগের সংগঠন “রেইস” এর উদ্দ্যোগে আগামী সপ্তাহে আমরা ক্লিন ক্যাম্পাস নামক একটি প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। এসময় তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় একটি ময়লার স্তুপে পরিনত হবে।

এবিষয়ে ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মো: মাসুদুর রহমান বলেন, প্রতিদিন ক্যাফেটেরিয়ায় প্রচুর পরিমান খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ থাকে। কিন্তু ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোন জায়গা নেই। আর আমাকে নিষেধ করার পর থেকে ওখানে ময়লা ফেলি না। আমি ৬০০ টাকা দিয়ে একজন লোক রেখেছি এবং একটি সাইকেলও কিনে দিয়েছি যাতে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকার বাইরে গিয়ে ময়লাগুলো ফেলতে পারে।

এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো: সিরাজুল ইসলাম বলেন, এত অল্প পরিসরের জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন চলতে থাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোন জায়গা এখনো নির্ধারন করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর বিপুল পরিমান পৌরকর দিলেও পৌরসভা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ময়লা অপসারনের সুবিধা পাচ্ছে না। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় তারা আসেন কিন্তু সচরাচর তাদেরকে পাওয়া যায়না। এছাড়া বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের আওতাধীন তারপরও বিশ্ববিদ্যালায়ের পরিবেশ রক্ষায় সকলের সহযোগীতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মোহা: তৌহিদুর ইসলাম বলেন, পুকুরটি ইএসআরএম বিভাগের দায়িত্বে রয়েছে। আপনি ইএসআরএম বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসারের সাথে কথা বলেন।

এ ব্যাপারে সহকারী এস্টেট অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোন জায়গা না থাকায় পৌরসভা থেকে ময়লা অপসারণের সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে ময়লা ফেলার জন্য একটি জায়গা ঠিক করার চেষ্টা করছি।

মোহাইমিনুল কাইয়্যূম, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়



মন্তব্য