ঢাকা - ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮ : ১০ ফাল্গুন, ১৪২৪

খেলাপি ঋণের পাহাড়

নিউজ ডেস্ক
নভেম্বর ২৪, ২০১৭ ১৫:৩৩

ব্যাংকিং খাতে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। বলা হয়, খেলাপি ঋণের পাহাড় জমে গেছে। বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণের ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশই এখন খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকের আয় দিয়ে বেশি হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। অনেক ব্যাংকের আয় দিয়েও এটা কুলায়নি। ফলে বেড়ে গেছে প্রভিশন ঘাটতি। এতে ব্যাংকের প্রকৃত আয় কমে গেছে।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর সেপ্টেম্বরের শেষে ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ ছিল ৬৫ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। এ বছরের সেপ্টেম্বরের শেষে ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকারও বেশি। এই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৪ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা, বা ২২ দশমিক ১৮ শতাংশ। এরমধ্যে গত তিন মাসেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ছয় হাজার ১৫৯ কোটি টাকা। তবে ঋণ অবলোপনসহ পুঞ্জীভূত খেলাপি ঋণ বেড়ে সোয়া লাখ কোটিতে ঠেকেছে, যা এক বছর আগে ছিল এক লাখ সাত হাজার কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ নিয়ে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক কর্মশালায় গভর্নর ফজলে কবির বলেছেন, ‘ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ একটি গুরুতর সমস্যা। এই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক উদ্বিগ্ন। তবে হঠাৎ করেই দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়েনি। এটা দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের ঋণ দিয়েছে সাত লাখ ৫২ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। এরমধ্যে খেলাপি হয়েছে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি ২১ লাখ টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। পরিচালকদের ঋণ ভাগাভাগির পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।



মন্তব্য