ঢাকা - ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮ : ৫ ফাল্গুন, ১৪২৪

কুকুরের ভালোবাসায় ব্যাংকের চাকরি ছাড়লেন ম্যানেজার

নিউজ ডেস্ক
নভেম্বর ১৪, ২০১৭ ১৫:২৭
ডায়ানা বাবিশ বেওয়ারিশ কুকরের আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছেন। ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে অবস্থিত এই আশ্রয় কেন্দ্রে ১০০ বেওয়ারিশ কুকরের আশ্রয় মিলেছে। ডায়ানা বাবিশ ব্যাংকের ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করেছেন। ২০ বছর ব্যাংকে কর্মরত থাকার পর চাকরি ছেড়ে দেন। তার পুরো সময়টা কুকুরের সেবা-যত্নে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেন।

ডায়ানা বাবিশ এনিম্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট এসোসিয়েশন এর প্রেসিডেন্ট। অলাভজনক সংগঠনটি কুকুরকে আশ্রয় দানে উৎসাহিত করে এবং পশু-পাখিদের প্রতি দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ করে। ডায়ানার ভাইয়ের বাড়ির দু’তলাও ৪০টি কুকুরের আশ্রয়দান কেন্দ্র বানানো হচ্ছে। এটিরে নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি।

তিনি দেখেছেন অনেকেই কুকুরকে আঘাত করে। অনেকেরই পশুর প্রতি কোনো দয়া-মায়া নেই। তাই আজীবন এসব অবহেলিত প্রাণীদের পাশে থাকতে আত্মনিয়োগ করেছি। আমি চাই এসব নিরীহ প্রাণীর প্রতি মানুষের নেতিবাচক মানসিকতার পরিবর্তন করতে এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে। আমি মানুষের মাঝে এই সচেতনতা তৈরি করতে চাই যে, পশু-পাখিরাও আমাদের পরিবারেরই অংশ। তারা স্রষ্টার সৃষ্টি। তাদের সম্মান করা উচিৎ।

ডায়ানা বাবিশ বলেন, ‘বেশিরভাগ জনগণই মনে করে মানুষই একমাত্র এবং শুধুমাত্র বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি।’ অথচ তিনি দিন-রাত রাস্তায় একাকি অসুস্থ ও আক্রান্ত কুকুরের খুঁজে থাকেন। বাবিশের মতে, পশ্চিম তীরের নগর কর্তৃপক্ষের কুকুরকে গুলি করে কিংবা খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে খাওয়ায়ে মেরে ফেলা বন্ধে উদ্যোগী হওযা উচিৎ। প্রাণিদেরও বেঁচে থাকার অধিকার আছে, তাদেরকে হত্যা করার অধিকার কারো নেই।

ডায়ানা বাবিশের কুকুরের যত্ন নেয়া এবং নিরীহ প্রাণীটিকে আশ্রয় দান অনেকের কাছেই প্রশংসনীয় উদ্যোগ বলে বিবেচিত হয়েছে। ডায়ানা বাবিশ বলেন, ‘পশু-প্রাণিই আমার সন্তান। আমি যদি তাদের সহযোগিতা না করি, তাহলে আর কে করবে? মানুষের উচিৎ সন্তানদেরকে পশু-পাখির প্রতি দয়া-মায়া ও সম্মান করতে শেখানো। পশুরাতো কথা বলতে পারে না। তাই তাদের পক্ষে আমাদেরকেই কথা বলতে হবে। এমনভাবে সমস্যাটির সমাধান করতে হবে যাতে মানুষ তাদের বিপক্ষে না যায় এবং অসম্মানিত না করে।’

বাবিশের মা মোটেই এই প্রকল্প শুরু করার সময় অবাক হননি কারণ ডায়ানা বাবিশ ছোটবেলা থেকেই সব সময় পশু-পাখি ভালোবাসতেন। শৈশবেও পূর্বের বাড়িটিতে অনেকগুলো বিড়ালের যত্ন নিতেন। তিনিও তাকে তার কাজে সহায়তা করেছেন। তবে বাবিশের বাবা মনে করেন কুকুরের রাস্তায়ই থাকা উচিৎ। ফলে তিনি মেয়েকে কোনো সহায়তা দেননি এবং মেয়ের কাজকে ঠিক মনে করেননি।

সূত্র : মিডেল ইস্ট আই


মন্তব্য