ঢাকা - মে ২৩, ২০১৮ : ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫

নাম্বার ওয়ান সাকিবের বিশ্রাম ভাবনা ও আক্ষেপ

নিউজ ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭ ১৯:০০
২ বার পঠিত
শরীরের ওপর জোর করা চলে, মনের ওপর নয়। সিনেমার ডায়লগ বলতে পারেন বা বাস্তবতা, সাকিব আল হাসানের বিশ্রাম নিয়ে আপাতত এটিই ট্যাগলাইন!

কেউ যদি বিশ্রাম চেয়ে বসে, তখন আসলে বিশ্রাম না দিয়ে আর উপায় থাকে না। কারণ জোর করে আর যাই হোক, ক্রিকেট খেলা হয় না। সবসময়ই বলি, ক্রিকেটের মত সাইকোলজিকাল খেলা আর নেই। ক্রিকেট যতটা শরীরের খেলা, তার চেয়ে অনেক বেশি মন আর মাথার। কাজেই সাকিব অফিসিয়ালি বিশ্রাম চাওয়ার পর দিতেই হতো।

বোমটা ফেটেছে হয়ত দুম করেই। তবে তার পরিকল্পনা অনেক দিনের। নানা সময়ে এটা নিয়ে ভেবেছেন। টুকটাক আলোচনা করেছেন। বিভিন্ন সময়ে নানা সূত্র থেকে যতটা জেনেছি , ক্লান্তি-শ্রান্তিতে টেস্ট থেকে ২-১ বছরের বিরতি নেওয়ার কথাও নাকি ভেবেছেন কখনও কখনও।

সেটির কারণও ছিল। তার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় ইনজুরি যেটি, সেটি হয়েছিল স্ট্রেস থেকেই। শিন বোন ক্ষয়ের মত হয়েছিল অতিরিক্ত চাপে। সতর্কতায় সেটি ওভারকাম করা গেছে। ২০১২ সালে শিনবোন ইনজুরিতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলেননি।

২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কায় খেলতে পারলেন না। তখন ছিল তিনটি সমস্যা। কাফ মাসলে ইনজুরি। বাকি দুটিই ছিল স্টেস রিলেটেড। স্ট্রেস রিঅ্যাকশন টিবিয়া ও এক্সারশনাল কম্পার্টমেন্টাল প্রেশার সিনড্রোম (ভুল করিনি আশা করি!)। কাফ মাসলে অপারেশন হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। বাকি দুটি ওভারকাম করা গেছে সময় নিয়ে।

২০১৫ সালে আবার শিন বোনে ব্যথা। সেটির কারণে সেবার খেলতে পারেননি জাতীয় লিগে।

একটা ব্রেকের ভাবনা তাই সাকিবের বেশ আগে থেকেই ছিল। আজকে সাকিব বলেছেন, তার ভয় হয় এভাবে চলতে থাকলে ২-১ বছরের বেশি খেলতে পারবেন না। শুনে শিউরে উঠতে হয়। আমি স্বপ্ন দেখি, ভারতে ২০২৩ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ে সাকিব আমাদের নেতৃত্ব দেবেন। ওয়াংখেড়ে বা ইডেনে উঁচিয়ে ধরবেন ট্রফি। তাই সকিব যখন বলেন যে আরও ৫-৬ বছর খেলতে একটি ব্রেক তার জরুরী, তখন মেনে নিতেই হয়।

ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি থেকে কেন নয়, কেন টেস্ট থেকেই বিশ্রাম … এটির ব্যখ্যাও আজকে সাকিব দিয়েছেন। দুটি টেস্ট ম্যাচ মানে কেবল পাঁচ-পাঁচ দশদিন নয়। প্রস্তুতি ম্যাচ, তার আগের প্রস্ততি মিলিয়ে মাসখানেকের ধাক্কা। এবারই যেমন দুটি টেস্টের আগে প্রস্তুতি ছিল দুই মাসের। ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধকল এতটা থাকে না। যুক্তি মানার মতোই।



মন্তব্য