ঢাকা - মে ২২, ২০১৮ : ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫

ছাত্রীকে নিয়ে উধাও মাদ্রাসাশিক্ষক,দুই বউকে তালাক

নিউজ ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭ ১৬:১৬
০ বার পঠিত
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চণ্ডীগড় ইউনিয়নে এক মাদ্রাসাশিক্ষক (৪৫) এক ছাত্রীকে (১৮) বাসা থেকে ভাগিয়ে নিয়ে গেছেন। এরপর তিনি আগের দুই স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং ওই শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দেয় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানায়, ওই শিক্ষকের নাম ওমর ফারুক। তার দুই স্ত্রী। পেশায় চণ্ডীগড় ইউনিয়নের একটি আলিম মাদ্রাসার আরবি বিষয়ের শিক্ষক। ওই ছাত্রী আলিম দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন। বাড়ি আলমপুরের পাশের গ্রামে। তিনি ওমর ফারুকের বাসায় গিয়ে মাঝেমধ্যে প্রাইভেট পড়তেন। এ সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৭ আগস্ট থেকে ওই ছাত্রী নিখোঁজ হন। তাকে কোথাও না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কয়েকদিন পর দুর্গাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির বিষয়টি জানতে পেরে ওই ছাত্রী শিক্ষক ওমর ফারুককে নিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান আকন্দের কাছে হাজির হন।

ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ বলেন, ওই ছাত্রী মাদ্রাসাশিক্ষক ওমর ফারুককে নিয়ে এসে জানান, তারা স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছেন। বিয়ের আগে ওমর ফারুক আগের দুই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।

এরপর এই ঘটনা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। এই ঘটনা জানতে পেরে শোকে হৃদরোগে আক্রান্ত হন ছাত্রীর বাবা। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর এই ঘটনায় আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। ওই শিক্ষকের বহিষ্কার ও শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামে এলাকাবাসী। প্রায় প্রতিদিনই মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করছে মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় ওই শিক্ষককে। স্থায়ী বহিষ্কারের দাবীতে এলাকাবাসী মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসায় তালা লাগিয়ে দেয়।

বাংলাদেশ২৪অনলাইন/টিএম


মন্তব্য