ঢাকা - এপ্রিল ২৩, ২০১৮ : ৯ বৈশাখ, ১৪২৫

বিশ্বনেতাদের মূল্যায়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

নিউজ ডেস্ক
আগস্ট ১৫, ২০১৭ ১৮:৪৯
বিশ্ব নেতারা বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবদ্দশায় এবং নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরও তাঁর প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী এবং সাংবাদিকসহ আর্ন্তজাতিক ব্যক্তিত্বদের করা মন্তব্য সংবাদপত্র ও বিভিন্ন প্রকাশনায় প্রকাশিত হয়েছে।

১৯৭১ সালের সাতই মার্চ ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঐতিহাসিক ভাষণ দেন বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৮ মিনিট স্থায়ী ছিল সেই ভাষণ। তবে সেদিন যারা রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত ছিলেন তাদের মতে, সেই জ্বালাময়ী ভাষণ কোনো ভাষণ নয়, বরং একজন দক্ষ, সুনিপুণ কবির ছন্দময় কবিতা। সেই ভাষণেমোট ১২টি ভাষায় ভাষণটি অনুবাদ করা হয়।

তবে সেদিন বাংলায় কবির মতো বক্তব্য রাখলেও বঙ্গবন্ধুকে প্রথম ‘রাজনীতির কবি’ এর মতো একটি সুন্দর উপাধিতে ভূষিত করে কিন্তু একটি বিদেশি পত্রিকা। সেটি হলো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নিউজউইক।



১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল ম্যাগাজিনটি তাদের প্রচ্ছদজুড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দিয়ে লিড নিউজে তাকে অভিহিত করে ‘পয়েট অব পলিটিক্স’ বা ‘রাজনীতির কবি’ হিসেবে। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের জন্যই তাকে এ উপাধি দেওয়া হয়।

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হ্যারোল্ড উইলসন বঙ্গবন্ধুর হত্যার খবর শুনে একজন বাঙালি সাংবাদিককে লিখেছিলেন, এ ঘটনা তোমার, আমার জন্য একটি সর্বোচ্চ জাতীয় ট্রাজেডি, এটি একটি অপরিমেয় মাত্রার ব্যক্তিগত ট্রাজেডি।

১৯৭৩ সালে আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ শীর্ষ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো দুই অতুলনীয় নেতার সাক্ষাৎকালে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কে কিউবার নেতা ফিদেল ক্যাস্টো বলেছিলেন, আমি হিমালয় দেখিনি, তবে শেখ মুজিবের ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতা দেখেছি। এই লোকটি একটি হিমালয় পবর্ত। আমি তাকে দেখে হিমালয় পবর্ত দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। কিউবার নেতা ক্যাস্ট্রো সম্মেলন শেষে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এ মন্তব্য করেন।



মিসরের একজন বিখ্যাত সাংবাদিক হ্যাসনিন হেইক্যাল বঙ্গবন্ধুকে বাঙালির বীর হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বাংলাদেশের অন্তর্গতই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সব বাঙালির মুক্তির অগ্রদূত।

আল আহরাম পত্রিকার সাবেক সম্পাদক এবং মিসরের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট নাসেররের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাংবাদিক হ্যাসনিন হেইক্যাল বলেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদ বাঙালি সভ্যতা ও সংস্কৃতির নতুন জাগরণ। মুজিব অতীতে এবং এ সময়ের বাঙালি বীর।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার এবং কয়েকটি জনসভায় যোগ দেয়ার সুযোগ পাওয়া বিখ্যাত ব্রিটিশ এক সাংবাদিক লিখেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠ ছিল চমৎকার। তিনি জনসভায় লোকদের মুগ্ধ করতে পারতেন।



লন্ডন অবজারভার পত্রিকার অপর এক বিশিষ্ট ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইরিল ডুন তার এক নিবন্ধে লিখেছিলেন, বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এমন একজন নেতা, যার রক্ত, জাতি, ভাষা, সংস্কৃতি এবং জন্মের পুরোটা জুড়েই ছিল পূর্ণাঙ্গ বাঙালি রক্তের।

ব্রিটিশ মানবতাবাদী আন্দোলনের প্রয়াত নেতা লর্ড ফেনার ব্রোকওয়ে এক মন্তব্যে বলেছিলেন, জর্জ ওয়াশিংটন, মহাত্মা গান্ধী, দ্যা ভ্যালেরার চেয়েও শেখ মুজিব ছিলেন একজন বড় মাপের মহান নেতা।

ভারতের মনিপুর ও ঝাড়খন্ড রাজ্যের সাবেক গভর্নর ভেদ মারওয়া এক মন্তব্যে বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন ক্যারিসমেটিক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নেতা। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার অনেকবার সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিল। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। -বাসস


মন্তব্য