ঢাকা - ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮ : ১০ ফাল্গুন, ১৪২৪

‘আশাহত হবে না, বড় কিছু অপেক্ষা করছে’

নিউজ ডেস্ক
আগস্ট ০২, ২০১৭ ০০:১২
সানাউল হক সানী

প্রি টেস্টে ফেল করেছিলাম। ইয়ার ফাইনালে ফেলের ভয়ে পরীক্ষাই দেইনি। আমাকে নিয়ে ইন্টার পাসের স্বপ্নই ছেড়ে দিয়েছিলো পরিবারের সদস্যরা। ফেল করবো জেনেও কয়েকটা দিন পড়াশোনা করে টেস্ট পরীক্ষা দিলাম। ফলাফল- জিপিএ ৪.৬০, মানবিক বিভাগে যৌথভাবে সেকেন্ড।.


পুরো ইন্টার লাইফে কেবল কয়েকটা বাংলা ক্লাস করেছিলাম। বাংলা শিক্ষক ছাড়া অন্য শিক্ষকদের চেহারাই চিনতাম না। স্যাররা খোজঁ নিলেন কে এই হতভাগা। পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ ফ্রি করালো কলেজ।

ইংরেজি শিক্ষক শ্রদ্ধাভাজন আজাহার স্যার ফোন করে বাসায় ডেকে নিলেন। ওই দিনই প্রথম পরিচয়। বললেন কাল থেকে প্রাইভেট পড়তে এসো আমার কাছে। দুই মাস পড়েছিলাম। টাকা নেননি। অবশ্য আমি দিতেও পারতাম না তখন। স্যার কিছুদিন আগে মারা গেছেন। ঋণী করে গেলেন স্যার।

২০০৮ সাল। ইন্টার পরীক্ষা দিলাম বাড়ি থেকে অনেক দূরে ডাসার আতাহার আলী কলেজের পাশে বাসা ভাড়া নিয়ে। তিনজন থাকতাম বড় এক রুম। জীবনের প্রথম বাড়ির বাইরে থাকা। পড়াশোনার বারান্দায়ও নেই। সারাদিন বন্ধুদের বাসায় বাসায় ঘুরে বেড়ানো। আড্ডা চলতো সেরমভাবে। আম-কাঠাল আর নারিকেল গাছ ছিলো প্রচুর ডাসারে। (বুঝে নেন)।

যে বাসায় ভাড়া থাকতাম সেই ভাবি, পাশের বাসার ভাবিদের আক্ষেপ এই ছেলেটা কেন পরীক্ষা দিতে আসছে? নিশ্চিত ফেল করবে। ছোটখাটো ছিলাম বলেই হয়তো সবাই আদর করতো। পরীক্ষা শেষ করলাম। রেজাল্ট দিলো। ৪.৯০ পাইছিলাম। একদিন গিয়েছিলাম ডাসারে রেজাল্টের পরে।

ওহ, আমি কিন্তু এসএসসির টেস্ট পরীক্ষায় গণিতে ফেল করেছিলাম। অংকের মজিবর স্যার অন্য স্যারদের সাথে আমার পক্ষে বাঁজি ধরেছিলেন গণিতে এ প্লাস পাওয়াবেন বলে। ফলশ্রুতিতে স্যাররা দয়া করে পরীক্ষায় সুযোগ দিয়েছিলেন। ওই গণিতে পরে এ প্লাস-ই পাইছি।

ক্লাস সিক্সে রোল ছিলো ২৪, সেভেনে ১১, এইটে ৮, নাইনে ৪, টেইনে ৭৩১ পেয়ে সেকেন্ড, ফার্স্ট বয় পাইছিলো ৭৩২। ফার্স্ট হওয়ার জন্য একটানা তিনদিন টেবিলের সামনে থেকে তুলতে পারেনি আমাকে। কয়েক মাসে বাইরের আলো-বাতাসও দেখিনি। টেবিলেই খাওয়া-দাওয়া।

ঢাবিতে ভর্তির জন্য একদিন কোচিংও করিনি। একটা মডেল টেস্টও দেইনি। মোরাল অব দ্য স্টোরি- ফেইল বলতে কোনও শব্দ আমার অভিধানে নাই। তাই যারা এইচ এসসিতে জিপিএ ৪ থেকে ৫ এর মধ্যে পেয়েছ সবাইকে অভিনন্দন। আশাহত হবে না। বড় কিছু অপেক্ষা করছে।

লেখকঃ সাংবাদিক



মন্তব্য