ঢাকা - ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৮ : ১২ ফাল্গুন, ১৪২৪

‘নিভৃতে আমি থাকিবারে চাই, খ্যাতি আমারে টানে!’

নিউজ ডেস্ক
জুলাই ২০, ২০১৭ ১১:০৬
আলো যখন খেলে বেড়ায় তখন তা নির্দিষ্ট কোন জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে না, তা হয়ে ওঠে বিশ্বের। যাঁরা জনসাধারণের নেতা, যাঁরা কর্মবীর সর্বসাধারণের সম্মান তাঁদেরই প্রাপ্য এবং জন পরিচালনার কাজে সেই সম্মানের তাঁদের প্রয়োজনও আছে। যাঁরা লক্ষ্মীকে উদ্ধার করার জন্য বিধাতার মন্থনদন্ডস্বরূপ হয়ে মন্দার পর্বতের মতো জনসমুদ্রে মন্থন করেন, জনতা-তরঙ্গ উচ্ছ্বোসিত হয়ে উঠে তাঁদের ললাটে সম্মান ধারায় অভিষিক্ত করবে এটাই সত্য, এইটেই স্বাভাবিক।


যাই হোক, যে কারণেই হোক, আজ য়ুরোপ আমাকে সম্মানের বরমাল্য দান করেছেন। তার যদি কোনো মূল্য থাকে তবে সে কেবল সেখানের গুণীজনের রসবোধই আছে। আমাদের দেশের সঙ্গে তার কোন আন্তরিক সম্বন্ধ নেই। ‘নোবেল’ প্রাইজের দ্বারা কোনো রচনার গুণ বা রসবৃদ্ধি করিতে পারে না। অতএব আজ যখন সমস্ত দেশের জনসাধারণের প্রতিনিধিরূপে আপনারা আমাকে সম্মান উপহার দিতে প্রবৃত্ত হয়েছেন, তখন সে সম্মান কেমন করে আমি নির্লজ্জভাবে গ্রহণ করব? এ সম্মান আমি কতদিনই বা রক্ষা করব?

আমার এ দিন তো চিরদিন থাকবে না, আবার ভাঁটার বেলা আসবে, তখন পঙ্কতলের সমস্ত দৈন্য আবার তো ধাপে ধাপে প্রকাশ হতে থাকবে। তাই আমি আপনাদের কাছে করজোড় জানাচ্ছি- যা সত্য তা কঠিন হলেও আমি মাথায় করে নেব, কিন্তু যা সাময়িক উত্তেজনার মায়া, তা আমি স্বীকার করে নিতে অক্ষম। যিনি প্রসন্ন হলে অসম্মানের প্রত্যেক কাঁটাটি ফুল হয়ে ফোটে প্রত্যেক পঙ্কপ্রলেপ চন্দনপঙ্কে পরিণত হয় এবং সমস্ত কালিমা জ্যোতিষ্মান হয়ে ওঠে তাঁরই কাছে আজ আমি এই প্রার্থনা জানাচ্ছি- তিনি এই আকস্মিক সম্মানের প্রবল অভিঘাত থেকে তাঁর সুমহান্ বাহুবেষ্টনের দ্বারা আমাকে নিভৃতে রক্ষা করুন।

(নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন বক্তৃতায় অতিথিদের অনেকেই অত্যান্ত মর্মাহত হন। অতিথিরা অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভোজপর্ব ত্যাগ করে ট্রেনে উঠতে বোলপুর স্টেশনে চলে যান )



মন্তব্য