ঢাকা - ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮ : ১০ ফাল্গুন, ১৪২৪

‘‌পোলা যেখানে আসছ খাড়াইয়া থাক, থাবড়াইয়া কানের বাতা খুলইয়া দিমু'

নিউজ ডেস্ক
এপ্রিল ১৮, ২০১৭ ২১:২২
কন্ডাকটরের প্রবল আপত্তি সত্বেও দুই নারী জোর করে বাসে উঠলেন। একজনের কোলে শিশু; ওঠামাত্রই মায়ের কপালের ঘাম যার চোখে পড়ল। জল-কাজল একাকার, অতঃপর কান্নার শব্দ...নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও কন্ডাকটর সংরক্ষিত নারী আসনে বসা ‌পুরুষদের জায়গা ছাড়তে বললেন। কেউ কর্নপাত করল না, একজন কেবল এ কানের হেডফোন ও কানে লাগলেন, এই গরমে শব্দ বিভ্রাট অবশ্যই বাঞ্ছনীয় নয়।

ছিলাম একেবারে পিছনে। সেখান থেকে কন্ডাকটরকে অনুরোধ করলাম, ওদের সিট ছাড়তে বলতে। কন্ডাকটর কিছু বলার আগেই মুখ খুললেন সেই আসনে বসা এক যাত্রী। দশাসই চেহারার এক নওজোয়ান অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‌.‘.......পোলা যেখানে আসছ খাড়াইয়া থাক, থাবড়াইয়া কানের বাতা খুলইয়া দিমু'

এই গরমে কানের বাতা হারানো কাজের কথা নয়। কানের সঙ্গে আমার আমার চোখও জড়িত। কারণ কানের সঙ্গে আমার চশমার ডাট গোজা থাকে। অতএব বিনয়ী ভদ্রলোকের ইচ্ছামতো আমি অফ গেলাম।

আমার এহেন সাফল্যকে স্বাগত জানিয়ে পাশে বসা ষাটোর্ধ্ব এক অভিজ্ঞ ব্যক্তি পরামর্শ দিলেন, 'ব্যাক্কেলদের সঙ্গে ঝামেলার দরকার নাই, চুপ থাকেন।'

জীবনে 'অভিজ্ঞ'দের পরামর্শ কখনোই ফেলি নাই। সুতরাং তুরন্ত চুপ হয়ে গেলাম। এর মধ্যেই বাস দুরন্ত গতিতে স্পিডবেকার পার হল। আকস্মিক ধাক্কায় দুলতে দুলতে সেই শিশুটির মাথা বাসের থাম্বার সঙ্গে গুতা গেল।

পাশের অভিজ্ঞ ব্যক্তিটি জানলার বাইরে তাকিয়ে বলে উঠলেন, ‌'ইয়া মাবুদ।'

লেখক লতিফুল হক, লেখাটি ১৮ এপ্রিল তাঁর ফেইসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া

সাব-এডিটর, ডেইলি কালের কণ্ঠ


মন্তব্য